বিসিবির সব কর্মকর্তা বাসায় বসে কাজ করবেন

0
146

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দারুণভাবে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গতকাল দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি তাদের সকল কার্যক্রম ‘গৃহবন্দি’ করার ঘোষণা দিয়েছে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন করোনা সতর্কতায় সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেন। সংস্থার সব কর্মকর্তা কর্মচারিকে বাসায় থেকে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে আজ থেকে। তবে প্রয়োজন হলে বিশেষ ব্যবস্থায় কেউ অফিসে আসতে পারবেন। আর ক্রিকেটাররা নিজেদের ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে চাইলে মানতে হবে নির্দেশনা। তিনি বলেন, ‘এটা (বিসিবি কর্মীদের বাসায় থেকে কাজ) আগামীকাল (আজ) থেকে কার্যকর হবে। ইতিমধ্যে আমরা আমাদের বিভাগের ম্যানেজারদের সঙ্গে কথা বলেছি।

বোর্ডের একটা নির্দেশনা সবাইকে দেয়া হয়েছে। যতটুকু সম্ভব, আমাদের অপারেশনাল যে কাজগুলো থাকবে, সেগুলো আমরা সীমিত আকারে করার চেষ্টা করবো। এর মধ্যে কোনো ইমারজেন্সি যদি চলে আসে তাহলে আপনারা জানেন যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব বিষয়ে আমরা চেষ্টা করবো অফিসে উপস্থিত হওয়ার। প্রয়োজন হলে অফিসে এসে কাজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে নির্ধারিত কিছু নীতিমালা থাকবে।’

এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকীর সকল আয়োজন স্থগিত করেছে বিসিবি । আগামী মাসে পাকিস্তান সফরও বাতিল। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লীগের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে দেশের সব ধরনের ক্রিকেট স্থগিত করা হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। প্রতিবেশী ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তাদের প্রধান কার্যালয় লকডাউন করেছে অনেক আগেই। তাই গুঞ্জন ছিল বিসিবিও হয়তো এই সিদ্ধান্ত নিবে। কিন্তু লকডাউন না করলেও তারা দ্রুতই তাদের কার্জক্রম সীমিত করার ঘোষণা দিলো। শুধু তাই নয় গতকাল বিসিবি শরনাপন্ন হয়েছিল অণুজীব বিশেষজ্ঞের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর চন্দন কুমার রায় গতকাল বিসিবিতে কর্মরত সকলকে নিয়ে সেমিনার করেন। সেখানে ক্রিকেট সংবাদিকদেরও রাখা হয়। এ বিষেয়ে প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘এই সচেতনতায় সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে বলে বোর্ড মনে করে। সেক্ষেত্রে আমাদের স্টাফ মেম্বার যারা আছেন, বিভিন্ন পর্যায়ে যারা আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের সঙ্গে কয়েকটা সেশন আমরা আজকে করবো। যেখানে আমাদের ডাক্তাররা করোনা ভাইরাস নিয়ে কথা বলবেন। কীভাবে করোনা ভাইরাস থেকে সচেতন থাকা যায় এটা নিয়ে তারা কথা বলবেন।’
অন্যদিকে  দেশি-বিদেশি সকল খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়াতে ক্রিকেটাররা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তারা পড়েছে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে। অন্যদিকে তাদের ফিটনেস ধরে রাখাও বড় চ্যালেঞ্জন। গতকাল বিসিবির একাডেমির জিম ও মাঠে ফিটনেস নিয়ে কাজ করেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। এর মধ্যে  পেসার আল আমিন হোসেন, ব্যাটসম্যান মোহামাম্মদ মিঠুন, নাঈম ইসলামরা শঙ্কা প্রকাশ করেন তাদের ফিটনেস ধরে রাখা নিয়ে। যদি বিসিবি কার্যালয় বন্ধ হয়ে যায় তাদের জন্য বড় ধরসের সমস্যাই অপেক্ষা করছে বলে মনে করেন তারা। তবে বিসিবির সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন জানিয়েছেন তাদের নির্দেশনা মেনেই ক্রিকেটাররা ফিটনেস ধরে রাখার কাজ করতে পারবে জরুরী পরিস্থিতিতে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মেডিক্যাল বিভাগ ও ফিটনেস ট্রেনিং বিভাগ যেটা আছে তাদের কিছু নির্দেশনা সকল ক্রিকেটারকে দেয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রিকেটাররা তাদের ফিটনেস ধরে রাখা থেকে যাবতীয় কাজ করতে পরাবে।’
এরই মধ্যে বাংলাদেশেও করোনাকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে জরুরী অবস্থাও জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে জাতীয় দল ছাড়াও বেশির ভাগ ক্রিকেটার লম্বা ছুটিতে চলে গেছেন নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে। আবার অনেক ক্রিকেটারই নিজেদের স্বেচ্ছায় গৃহবন্দিও করেছেন। বলতে গেলে সারা বিশ্বের মত বাংলাদশের খেলাধুলাও এক চরম খারাপ সময়ের মুখোমুখি!

Print Friendly, PDF & Email