ঋণ নিয়ে পাকিস্তান-সৌদি আরব সম্পর্কে অস্বস্তি!

0
96

বার্তা প্রতিদিন ২৪ নিউজ ডেস্ক:

তিনশত কোটি ডলার ঋণ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে অস্বস্তিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে পাকিস্তানের। ওই ঋণ দফায় দফায় শোধ করার কথা থাকলেও পাকিস্তান তাতে অপারগতা প্রকাশ করে। প্রথম দিকে তা রিয়াদ মেনে নিলেও এবার সাফ জানিয়ে দেয়- তারা তাদের অর্থ ফেরত চায়। একদিকে দেশটির অর্থনীতির অবস্থা ভাল নয়, তার ওপর করোনা ভাইরাস মহামারি। সব মিলে নাজুক এক অবস্থায় পৌঁছে যায় পাকিস্তান। কিন্তু রিয়াদের চাপে পড়ে তারা হাত বাড়ায় চীনের দিকে। এগিয়ে আসে চীন। পাকিস্তানকে ২০০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেয় তারা।

সেই অর্থ থেকে এরই মধ্যে ১০০ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে সৌদি আরবের ঋণের। এটা ছিল মোট ৩০০ কোটি ডলারের দ্বিতীয় কিস্তি। এখন শেষ কিস্তি অর্থাৎ ১০০ কোটি ডলার বাকি আছে। আগামী মাসে সেই অর্থ শোধ করার কথা রয়েছে। ওই ঋণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে সোমবার রাজধানী ইসলামাবাদে নিয়োজিত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত নাওয়াফ বিন সাঈদ আল মালিকি সাক্ষাত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে। বৈঠকের পর ইমরান খানের অফিস থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতির প্রতি জোরালো দৃষ্টি দেয়া হয়েছে। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী ভ্রাতৃত্বপূর্ণ যে সম্পর্ক বিদ্যমান তাকে আরো শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের অনলাইন ডন।
ডনের খবরে বলা হয়, আলোচনায় সৌদি আরবের দেয়া ঋণের বিষয় উল্লেখ করা হয়। গত সপ্তাহে পাকিস্তান তার দ্বিতীয় কিস্তি ১০০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। এই ঋণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ভূরাজনৈতিক মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছিল। এর ফলে অনেকেই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে অস্বস্তিকর হিসেবে দেখেছেন। ২০১৮ সালে পাকিস্তান ‘ব্যালেন্স অব পেমেন্ট ক্রাইসিসে’ ভুগছিল। তাদেরকে এ অবস্থা থেকে উত্তরণে তিন বছরের জন্য ওই বছর ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দেয় সৌদি আরব। ওই সময় তেল খাতে আরো ৩২০ কোটি ডলার ঋণ সুবিধা দিতে সম্মত হয়েছিল সৌদি আরব। কিন্তু প্রথম বছর পরে তারা তা বন্ধ করে দেয়।
সৌদি আরবের ক্যাশ লোন এরই মধ্যে পরিপক্বতা পেয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান প্রত্যাশা করেছিল, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির বিষয় বিবেচনা করে রিয়াদ ঋণ শোধ দেয়ার জন্য সময় বৃদ্ধি করবে। কিন্তু তা আসলে এবার ঘটেনি। রিয়াদ সাফ জানিয়ে দেয়- তাদের অর্থ ফেরত দিতে হবে। ফলে চীনের কাছ থেকে অর্থ এনে সেই ঋণের একটি অংশ শোধ করে পাকিস্তান। অনেকে বলেন, তুরস্ক এবং ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ভাল। তাদের পররাষ্ট্রনীতির এই অবস্থানের কারণে সৌদি আরব পাকিস্তানের প্রতি নমনীয় নয়। তবে পাকিস্তানের অনেক কর্মকর্তা সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে উঠবে বলে আশা করছেন।
আগামী মাসে রাজধানী ইসলামাবাদে সফরে আসার কথা সৌদি আরবের প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের নেতৃত্বে সৌদি আরবের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের। এরপর রিয়াদ সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের। তবে দুই দেশের মধ্যে অস্বস্তিকর অবস্থাকে প্রপাগান্ডা বা প্রচারণা বলে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিশেষ সহকারী তাহির আশরাফি। তিনি মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিও। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোনো বিষয়েই কোনো চাপ নেই। উপরন্তু গত এক দশকের চেয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক বেশি ভাল অবস্থানে রয়েছে বলে তার দাবি।

Print Friendly, PDF & Email