আবরার হত্যার বিচার হবেই বললেন প্রধানমন্ত্রী

0
123

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচারে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন- অবশ্যই সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কীসের ছাত্রলীগ, ছাত্রদল? অপরাধী কোন দলের, সেটা বিবেচনায় আনা হবে না। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবেই। অপরাধী অপরাধীই।

আবরার হত্যাকাণ্ডকে অমানবিক অভিহিত করে তিনি আরও বলেছেন, ‘একটা বাচ্চা ছেলে। ২১ বছর বয়স। তাকে কী অমানবিকভাবে হত্যা করেছে। পিটিয়ে পিটিয়ে মেরেছে। সে সাধারণ পরিবারের মেধাবী ছেলে। আমি তার মা-বাবার কষ্ট বুঝি। আমিও বছরের পর বছর হত্যার বিচার চেয়ে পাইনি। আমাকে ৩৮ বছর বিচারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। এটাও দেশবাসীর ভুলে গেলে চলবে না।’

ক্যাসিনো-কাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যেখানে অনিয়ম হবে, সেখানেই অভিযান চালানো হবে।

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। তিনি এ ধরনের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে আগামী দিনের স্বচ্ছ রাজনীতির জন্য একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেছেন, যারা সব সময়ই সরকারি দলের সমর্থক, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের পরিহার করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, তিনি কখনই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি, দেবেনও না। যারা অন্যায় করবে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী কোন দলের, সেটা বিবেচনায় আনা হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আমার দেশ। এ দেশের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব আমার। আমি সরকারপ্রধান। আর আমি অন্যের মতো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেশ পরিচালনা করি না। সুতরাং দেশের কোথায় কখন কী হচ্ছে, সেটা দেখার দায়িত্ব আমার। নিজের প্রতি আমার আত্মবিশ্বাস আছে। আমি যা কিছু করি, সেটা দেশ ও জনগণের কল্যাণেই করি। কারোর কোনো সমালোচনায় কিছু যায়-আসে না। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বার্থ বিক্রি করেনি। করবেও না। শেখ হাসিনাই দেশের স্বার্থ সবচেয়ে বেশি রক্ষা করেছে।’

সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং পরে ভারত সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপি উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন টেলিভিশনে সংবাদ সম্মেলনটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের আগে সাংবাদিকদের মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়ন করেন প্রধানমন্ত্রী।

আন্দোলনের আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে :আবরার হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে। অভিযুক্তদের বহিস্কার করার জন্য ছাত্রলীগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগ থেকে তাদের বহিস্কার করা হয়েছে। তাহলে আন্দোলন করতে হবে কেন? আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আরও সহনশীল হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তারা সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থী। বুয়েটের ভিসির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কথোপকথনের সময় কে ভিসি, কে শিক্ষার্থী- সেটা বোঝা যায়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সেইসঙ্গে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আনার সময় পুলিশকে কেন বাধা দেওয়া হয়েছে, সেটাও জানতে চেয়েছেন তিনি।

 

Print Friendly, PDF & Email