অক্সফোর্ডের ৩ কোটি ভ্যাকসিন বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে

0
86

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে ৩ কোটি ডোজ টিকা জনগণকে বিনামূল্যে দেয়া হবে।

সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানিয়েছেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

এই ভ্যাকসিনটি তৈরি করবে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা। এর নাম দেয়া হয়েছে সার্স কোভিড ভিটু এ জেড ১২২২।

চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর সিরাম ইন্সটিটিউটটে উৎপাদিত অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন বাংলাদেশের কাছে ৩ কোটি ডোজ বিক্রির প্রস্তাব ছিল। এই প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন।

ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে তৈরি করোনাভাইরাসের টিকাটির ভারতের উৎপাদনের দায়িত্ব পেয়েছে সিরাম ইন্সটিটিউট।

ভ্যাকসিন কীভাবে বিতরণ করা হবে সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বিষয়ে নীতিমালা রয়েছে। সে অনুযায়ীই বিতরণ করা হবে।

প্রতিটি ভ্যাকসিনের দাম জানা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মি. ইসলাম বলেন, এই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দেয়া হবে।

“মানুষ তো পয়সা দেবে না, মানুষকে বিনা পয়সায় দেয়া হবে। যে ভ্যাকসিন আসতেছে সেটা বিনা পয়সায় দেয়া হবে।” বলেন খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তবে কত দামে এই ভ্যাকসিনগুলো কেনা হবে সেটা ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে জানা যাবে না বলে জানানো হয়।

গত ৫ই নভেম্বর টিকা আমদানি নিয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিরাম ইন্সটিটিউট এবং বেক্সিমকোর মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায়ই ৩ কোটি টিকা আনা হবে।

গত ১৬ই নভেম্বর ভ্যাকসিন আনার জন্য অর্থ-বিভাগ প্রাথমিক বরাদ্দ হিসেবে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগকে ৭৩৫ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়া এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় ক্রয় চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ভ্যাকসিন ক্রয়ের জন্য অর্থনীতি বিষয়ে মন্ত্রীপরিষদে একটি প্রস্তাব পাঠানোরও কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের বেক্সিমকোর কর্মকর্তারা এর আগে বিবিসি বাংলাকে জানায়, সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২১ সালের জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে সিরাম ইন্সটিটিউট থেকে করোনাভাইরাসের এই টিকাটি বাংলাদেশ পাবে বলে আশা করছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সিরাম ইন্সটিটিউটের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের জন্য আপাতত ৩ কোটি টিকা কেনা হবে। তবে বেসরকারি খাতের জন্য তারা এক মিলিয়ন বা দশ লক্ষ টিকার চাহিদা জানিয়েছেন। সব টিকাই আনা হবে বেক্সিমকোর মাধ্যমেই।

এছাড়া মাস্ক ব্যবহারে এই সপ্তাহে অভিযান আরো কঠিন হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

Print Friendly, PDF & Email